আরও দেখুন
গত চার সপ্তাহ ধরে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য 1.3400–1.3530-এর প্রশস্ত রেঞ্জে অবস্থান করছে, উপরের ও নীচের সীমা থেকে পালাক্রমে বাউন্স করছে। ক্রেতারা এই পেয়ারের মূল্যকে ঊর্ধ্বমুখী করার চেষ্টা করেছে (গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ লেভেল ছিল 1.3566), যখন বিক্রেতারা বারবার এই পেয়ারের মূল্য 1.33-এর এরিয়ায় থাকা অবস্থায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতিবারেই এই পেয়ারের মূল্য আগের অবস্থানে ফিরে গেছে এবং উপরে উল্লিখিত করিডোরে ওঠানামা অব্যাহত রেখেছে।
এখন বেশ কয়েকটি মৌলিক কারণ ডলারের পক্ষে কাজ করেছে। প্রথমত, মার্কেটে ফেডের ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা সংক্রান্ত প্রত্যাশা দুর্বল হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠেয় ফেডের জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার হ্রাসে বিরতির সম্ভাবনা 97%। মার্চে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা মাত্র 25%, এপ্রিলে এটি — 35%, এবং জুনে এটি — 47% বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মার্কেটের ট্রেডাররা দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল যে ফেড এই মাসে মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে এবং বছরের প্রথমার্ধ জুড়ে সার্বিক অবস্থা প্রায় অপরিবর্তিতই থাকবে। এ ধরনের সতর্ক পূর্বাভাস ডলারের পক্ষে কাজ করছে।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে ভূ-রাজনীতি। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, ট্রাম্পের কলম্বিয়া, কিউবা ও গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হুমকিসহ এবং ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ — এসব ঘটনাই মার্কেটে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছে।
অপ্রত্যাশিতভাবে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ডিসেম্বরের বৈঠকে মাঝারি মাত্রার হকিশ বা কঠোর অবস্থান নিয়ে পাউন্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রত্যাশানুযায়ী সুদের হার 25 বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। তবে আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির ৯ জনের মধ্যে কেবল ৫ জনই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছেন; চারজন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্তটি পাতলা সুতার উপর ঝুলছিল এবং একক ভোটের উপর নির্ভর করেছিল।
তদুপরি, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে সীমিত পর্যায়ে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করা হবে। কমিটির সদস্যরা বেতন বৃদ্ধির নেতৃস্থানীয় সূচকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা তাদের মতে "সম্ভাব্যভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার উপরে স্থিতিশীলও রাখতে পারে।"
অর্থাৎ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণের সংকেত দিলেও তারা স্বীকার করেছে যে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো "আরো কঠিন" হবে। এ ধরনের সংকেত 2026 সালে ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি আগ্রাসীভাবে সুদের হার কমানো শুরু করে—এ আশংকার মাত্রা কমিয়েছে।
এই কারণে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য প্রতিটি পরবর্তি সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফল ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ডিসেম্বর বৈঠকের লেন্স দিয়ে দেখা হবে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা প্রতিফলিত করবে।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের জিডিপি মাসিক ভিত্তিতে মাত্র 0.1% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের মাসে 0.1% পতনের শিকার হয়েছে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সূচকটি 0.1% হ্রাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বার্ষিক ভিত্তিতে দেশটির জিডিপি 1.1% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, যা আগের মাসে 1.3% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছিল।
উল্লেখিত পূর্বাভাস যথেষ্ট দুর্বল। সুতরাং, যদি মূল প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় (নিম্নমুখী না হয়ে), তবুও পাউন্ড চাপের মুখে পড়তে পারে — বিশেষ করে যদি সংশ্লিষ্ট সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোও পূর্বাভাস অতিক্রম করতে সক্ষম না হয়। প্রাথমিক পূর্বাভাসগুলো পাউন্ডের জন্য ইতিবাচক নয়। বিশেষত শিল্প উৎপাদন নভেম্বর মাসে মাসিক ভিত্তিতে মাত্র 0.1% বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে (আগের মাসে +1.1% ছিল); উৎপাদন সূচক মাসিক ভিত্তিতে 0.2% বৃদ্ধির প্রত্যাশা (আগের মাসে +0.5% ছিল) করা হচ্ছে।
এত দুর্বল পূর্বাভাসের বিপরীতে GBP/USD-এর লং পজিশন ওপেন করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে যখন বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক সূচকগুলোর ফলাফল ডলারের জন্য ইতিবাচক ছিল। মার্কিন উৎপাদক মূল্য সূচক (সামগ্রিক ও মূল উভয়ই) বার্ষিক ভিত্তিতে 3.0% ত্বরান্বিত হয়েছে (পূর্বাভাস অনুযায়ী 2.7%-এ নামার কথা ছিল)। খুচরা বিক্রয় সূচকের ফলাফলও ইতিবাচক ছিল—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট খুচরা বিক্রয় 0.6% বৃদ্ধি পেয়েছে (পূর্বাভাস ছিল 0.5% বৃদ্ধি); অটো বাদ দিলে খুচরা বিক্রয় 0.5% বেড়েছে (পূর্বাভাস ছিল 0.4%)। সম্ভবত এগুলো নভেম্বরের ফলাফল হওয়ায় এবং শাটডাউনের প্রভাব বজায় থাকায় মার্কেটের ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে শীতল ছিল।
তবুও বাস্তবতা হল মার্কিন উৎপাদক মূল্য সূচক ও খুচরা বিক্রয় উভয় সূচকের ফলাফল ইতিবাচক ছিল এবং এটি সংশ্লিষ্ট প্রবণতাকে প্রতিফলিত করেছে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দৈনিক চার্টে GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3450 রেজিস্ট্যান্স (দৈনিক চার্টে বলিঙ্গার ব্যান্ডের মিডিয়ান লাইন) অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। একই সময়ে এই পেয়ারের মূল্য কুমো ক্লাউডের উপরে রয়েছে কিন্তু টেনকান-সেন এবং কিজুন-সেন-এর মধ্যে অবস্থান করছে। 4-ঘণ্টার চার্টে এই পেয়ারের মূল্য বলিঙ্গার ব্যান্ডের মিডিয়ান লাইন এবং টেনকান-সেন ও কিজুন-সেন-এর মধ্যে অবস্থান করছে, তবে কুমো ক্লাউডের নিচে আছে। সব মিলিয়ে এটি স্থায়ী অনিশ্চয়তা এবং স্পষ্ট টেকনিক্যাল সিগনালের অভাব নির্দেশ করে। D1-এ এই পেয়ারের মূল্য বলিঙ্গার ব্যান্ডের মিডিয়ান লাইনের উপরে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হলে 1.3530-এ (নির্ধারিত রেঞ্জের উপরের সীমানা) লং পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত হবে না; অর্থাৎ অবশ্যই মূল্য 1.3450-এর উপরে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হতে হবে। যদি GBP/USD পেয়ারের ক্রেতারা মূল্যের এই রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য উক্ত করিডোরের নিম্ন সীমানা 1.3400-এ (H4-এ বলিঙ্গার ব্যান্ডের লোয়ার লাইন) ফিরে যাবে।