আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের সামান্য দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে এতে সামগ্রিক টেকনিক্যাল পরিস্থিতি বা বিদ্যমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। সামগ্রিকভাবে, এই সপ্তাহের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমর্থনে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ক্রমাগত বাড়ছে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে এবং মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই দুটি প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নভেম্বরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মূল সুদের হার বাড়াতে পারে। তাই আমাদের মতে, পাউন্ডের এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী টাইমফ্রেমের টেকনিক্যাল চিত্রও পাউন্ডের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে বর্তমানে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে; প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে এই পেয়ারের মূল্য দুটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে বাউন্স করে এবং এমনকি কিছু ডেভিয়েশনও গঠিত হয়। সুতরাং, সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে নতুন করেসহায়তা ছাড়াও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেড সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। রাতের বেলা, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করলেও কোনো ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট দেখা যায়নি। ইউরোপীয় সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে অবস্থান করলেও কোনো নিম্নমুখী মুভমেন্ট দেখা যায়নি। পরবর্তীতে, এই পেয়ারের মূল্য পুনরায় ওই এরিয়ার উপরে উঠে আসে, যা আজ আরও গতিশীল মুভমেন্টে পরিণত হতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। শুক্রবার যুক্তরাজ্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে সকালে কারেন্সি মার্কেটে উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রও অনুরূপ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচক প্রকাশিত হবে, তবে ট্রেডাররা হয়তো সেগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। অবশ্য ইউরোপীয় সেশনের তুলনায় মার্কিন ট্রেডিং সেশন সাধারণত বেশি অস্থির হয়ে থাকে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।