আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন হয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাউন্ডের মূল্য একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর ফলে, পাউন্ডের মূল্য একটি সাপোর্ট লেভেল খুঁজে পেয়েছে এবং এই লেভেল থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু করতে পারে। তবে এর জন্য ইউরোর মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটা দরকার। ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি না পেলে পাউন্ডের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই যখন প্রায় প্রতিদিনই ইউরোর দরপতন হচ্ছে, তখন এর মূল্যবৃদ্ধির আশা করা কঠিন। এক্ষেত্রে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মতো কারণগুলোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে; কিন্তু টানা এক মাস ধরে ইউরোর দরপতনের পর এ ধরনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হওয়া কঠিন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ইভেন্ট ছিল না। এই সপ্তাহে ট্রেডাররা মূলত প্রকাশিতব্য মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে দৃষ্টিপাত করছে, তবে সেই প্রতিবেদনও মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। প্রতিবেদনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ট্রেডাররা যদি মার্কিন ডলার কেনার দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে, তবে ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন কীভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে?
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.3259 লেভেলে নিখুঁতভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে এবং সেখান থেকে বাউন্স করে, যার ফলে ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পান। দিনশেষে পাউন্ডের মূল্য প্রায় 40 পিপস কমে যায়, যা ট্রেডাররা মুনাফা হিসেবে অর্জন করতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096–1.3107-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, তাই দিনের বেলায় মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কোনো বিষয় থাকবে না। আমরা মার্কেটে বড় ধরনের অস্থিরতার আশা করছি না এবং সম্ভবত পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্যের সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।