আরও দেখুন
সোমবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল। দিনের শুরুতেই ইউরোর দরপতন শুরু হয়, কারণ ট্রেডাররা তখন ইয়েমেনে যুদ্ধের সূচনা এবং ফ্রান্সের বাজেট সংকট সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছিল। মূলত, গত এক মাস ধরে আমরা ফরেক্স মার্কেটে একই চিত্র দেখছি: ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কেনার কারণ খুঁজে বের করছেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, অথচ ইউরোর পক্ষে কাজ করতে পারে এমন বিষয়গুলোকে তারা পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন। উল্লেখ্য যে, ঠিক গত সপ্তাহেই ইউরোজোন ও জার্মানির মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ইউরোর দর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও বেকারত্ব বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও ইউরোর পক্ষে ইতিবাচক ছিল। ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা কমে আসাও ইউরোর জন্য ইতিবাচক হওয়ার কথা ছিল। তা সত্ত্বেও ট্রেডাররা এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে চলেছে; তাই আমরা বর্তমান দরপতনের ধারাবাহিকতাকে কেবলই মোমেন্টাম-ভিত্তিক, অনুমান-নির্ভর এবং অযৌক্তিক বলেই মনে করছি। এই পেয়ারের মূল্য একবার ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও তা এখনও প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1198 লেভেল থেকে বাউন্স করলেও মাত্র 17 পিপসের মতো দরপতন ঘটেছিল। ফলে, স্টপ লসের কারণে কোনো লাভ বা ক্ষতি ছাড়াই ব্রেকইভেনে শর্ট পজিশন ক্লোজ হয়ে যায়। এরপর রাতের বেলা আরেকটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু সেই ট্রেডটিও একইভাবে ক্লোজ হয়ে যায়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। মঙ্গলবার ইউরোজোন খুচরা বিক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ADP থেকে সাপ্তাহিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা উভয় প্রতিবেদনকেই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি এবং এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি না। মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় শুরু হতে পারে। পুনরায় ট্রেন্ডলাইনের উপরে অবস্থান নিশ্চিতভাবে বজায় রেখে ক্লোজিংয়ের পরেই কেবল ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির আশা করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।