আরও দেখুন
মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এবং এগুলোর গুরুত্ব সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন চেয়েও কম—অথচ সোমবারের প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করতে পারেনি। আজ জার্মানিতে ট্রেড ব্যাল্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উল্লেখ্য যে, এডিপির মাসিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও মার্কেটে খুব একটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না; তাই আজকের এই প্রতিবেদনটি মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলবে বলে আশা করাটা খুব একটা যৌক্তিক নয়। সুতরাং, দিনটি বেশ 'নিস্তেজভাবে' কাটতে পারে এবং মার্কেটে খুবই স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু নেই। সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মূল সুদের হারের ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কেটে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। গত সপ্তাহে ফেডের অন্তত দুজন সদস্য জানিয়েছিলেন যে, মুদ্রানীতি কঠোর করার মতো কোনো কারণ নেই। তবে এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং তখন হয়তো আর্থিক নীতিমালায় পরিবর্তন আনার মতো কোনো কারণ বা প্রেক্ষাপট তৈরি হতে পারে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো বেশ পরস্পরবিরোধী ও অনিশ্চিত। আমাদের ধারণা, মূল সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। একই সময়ে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ নিতে পারে; তাই মার্কিন ডলারের তুলনায় ইউরোর জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। সপ্তাহান্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে ট্রেডাররা এ বিষয়টির প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বাভাবিক মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584–1.1594 এবং পাউন্ড 1.3587–1.3598 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে।। ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের ডাউনওয়ার্ড কারেকশন সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে এবং এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল ও সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।