আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ডাউনওয়ার্ড কারেকশন অব্যাহত ছিল, যা সোমবার শুরু হয়েছিল। তবে, দুই দিনের এই দরপতনের সময় ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য মাত্র 50 পিপস হ্রাস পেয়েছে। গতকাল ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের উল্লেখযোগ্য মুভমেন্টের সম্ভাবনা ছিল, কারণ যুক্তরাজ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। বিশেষ করে, বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডারদের প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন ছিল। জুন মাসে বেকারত্বের হার 4.9%-এ পৌছেছে, যেখানে ট্রেডাররা প্রত্যাশা করেছিল যে সূচকটি কমে 4.8%-এ নেমে আসবে। সুতরাং বলা যায়, এই প্রতিবেদনের প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় নেতিবাচক ছিল, যা হয়তো ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা দরপতন দেখতে পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। এই পেয়ারের মূল্য এখনও একটি আপওয়ার্ড চ্যানেলের মধ্যে অবস্থান করছে, তাই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। অধিকাংশ বিষয়ই এখনও মার্কিন ডলারের বিপক্ষে কাজ করছে, তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমরা ব্রিটিশ পাউন্ডের আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। আজ ট্রেডারদের যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখা উচিত।
উপরের চিত্রে যেমনটি দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন ধরে এই পেয়ারের মূল্য কোনো উল্লেখযোগ্য লেভেল বা এরিয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়নি, তাই নতুন ট্রেডারদের ট্রেডে এন্ট্রি করার জন্য কোনো ভিত্তি ছিল না। সারাদিন ধরে GBP/USD পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল বেশ দুর্বল ছিল। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য আপওয়ার্ড চ্যানেলের নিচে কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। বুধবার যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যা এই সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বাভাসের তুলনায় প্রকৃত ফলাফলের পার্থক্য যত বেশি হবে, মার্কেটে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াও ততটাই জোরালো হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র ফেডের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশিত হবে, যেটিকে বরাবরই একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।