আরও দেখুন
বুধবার তীব্র উত্থানের পর এবং তিন সপ্তাহব্যাপী চলমান উর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের করেকশন অব্যাহত ছিল। বলা যেতে পারে যে ব্রিটিশ কারেন্সির সাম্প্রতিক দরপতনটি সম্পূর্ণরূপে টেকনিক্যাল কারণে হয়েছে, যা সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার এরিয়ার থেকে শুরু হওয়া পূর্ববর্তী ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টের মতোই মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ যৌক্তিক কারণে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে, কারণ ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির খুব বেশি কারণ অবশিষ্ট নেই। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চিরকাল ধরে মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারবে না, এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি নিয়ে বর্তমানে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ফলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা মার্কেটে এমন মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি যার কারণ ব্যাখ্যা করা বেশ কঠিন। শুক্রবারে ট্রেডাররা মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফল উপেক্ষা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, এবং ইউরোর মতো পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্য অন্তত স্থবির হয়ে নেই।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুর্বল মুভমেন্টের কারণে ট্রেডারদের জন্য লাভজনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম ছিল। এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, কিন্তু সারাদিন কোনো কার্যকর মুভমেন্ট প্রদর্শন করতে পারেনি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে তিন সপ্তাহব্যাপী GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আমরা মনে করি যে, গত তিন সপ্তাহে ন্যায্য মূল্যের পুনরুদ্ধারের জন্যই পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হায়ার টাইমফ্রেমে তা সাইডওয়েজ চ্যানেলভিত্তিক টেকনিক্যাল মুভমেন্ট থেকে বাড়তি সহায়তা পাচ্ছে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে ট্রেন্ডলাইনটি পুনরায় অঙ্কন করা হয়েছে এবং তা আবার পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পেয়ারের মূল্য উক্ত ট্রেন্ডলাইনের নিচে কনসলিডেট করলে নতুন একটি প্রবণতা শুরু হতে পারে। আমাদের দৃষ্টিতে কেবল তখনই মার্কিন ডলারের মূল্যের নতুন প্রবণতার প্রত্যাশা করা যেতে পারে যদি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা যেতে পারে। তবে আজ আবারও এই পেয়ারের মূল্যের দুর্বল মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695। সোমবারে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। অতএব সম্ভাবনা রয়েছে যে আজ মার্কেটে ঐতিহ্যবাহী "বিরক্তিকর সোমবার" দেখা যাবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।