আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট প্রদর্শন করে নি, যদিও সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ও ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানহিসেবে জেরোম পাওয়েলের শেষ বৈঠক ছিল। যদিও সম্প্রতি জেরোম পাওয়েল নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি নমনীয়করণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন (ট্রেডাররা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখীতার কারণে চলতি বছরের মধ্যে সুদের হার হ্রাস করা হবে না বলে প্রত্যাশা করছিল), তবে ট্রেডাররা এই গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অস্থিরতার মাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাস্তবিক অর্থে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে অবস্থান করছে, এবং অষ্টমবারের মতো এই চ্যানেলের লোয়ার বর্ডার ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। বুধবারে মার্কেটে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে আমরা কেবল আশা করতে পারি যে আজ কমপক্ষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকটি কারেন্সি মার্কেটকে কিছুটা উদ্দিপীত করবে; তবে বাস্তবিক অর্থে মার্কেটে খুব বেশি মুভমেন্টের সম্ভাবনা নেই। ট্রেডাররা গত দুই মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ও সামষ্টিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করছে এবং শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। এখন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে নতুন কোনো সংবাদও আসছে না, এবং মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে এসেছে।
বুধবার ৫-মিনিট টাইমফ্রেমে কোনো স্পষ্ট ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। দিন শেষে এই পেয়ারের মূল্য 1.3476-1.3489 রেঞ্জে পৌঁছেছিল, যা ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বর্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কিন্তু সেখানে স্পষ্ট কোনো রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট দেখা যায়নি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা 2025 সালের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা 2026 সালেও পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে গত দুই মাসে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3476-1.3489 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3476-1.3489 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং ট্রেডাররা অনুঘটকগুলো দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3476-1.3489, 1.3587-1.3598, 1.3695, 1.3741-1.3751।আজ যুক্তরাজ্যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তবে ট্রেডাররা সম্ভবত গতকাল অনুষ্ঠিত ফেডের বৈঠকের মতোই এই বৈঠকটিও উপেক্ষা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এই প্রতিবেদনটির প্রভাবে মার্কেটে শক্তিশালী মুভমেন্ট সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।