আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যেন পাউন্ড একদিনের জন্য ট্রেডিং থেকে বিরতি নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট শুরু হয়, এক্ষেত্রেও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ইউরোর মতোই বার্ষিক সর্বোচ্চ লেভেলে ফিরতে চাইছে। মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটছে—মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা না শুরু হওয়ার কারণে নয়, বরং কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে চান বলেই এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মূলত মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব কমে যাওয়ায় মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটছে, কারণ সবসময়ই মার্কেটে ভূ-রাজনীতি প্রভাব বিস্তার করবে এমনটা হতে পারে না। ফলত, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাউন্ড ও ইউরোর মূল্য বাড়ছে। গতকাল কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, এবং অ্যান্ড্রু বেইলি ও ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অক্ষুন্ন রয়েছে এবং ব্রিটিশ মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সমর্থনের প্রয়োজন পড়ছে না। ডলারের দরপতনের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই গত বছর থেকেই প্রভাব বিস্তার করছে।
বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে 1.3529-1.3543 এরিয়াতে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য মাত্র 15 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতার প্রত্যাশায় ওই ট্রেডটি বৃহস্পতিবারেও হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3643-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, ফলে 2026 সালেও আমরা 2025 সালে পরিলক্ষিত এই পেয়ারের মূল্যের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তবে এজন্য বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও প্রশমিত হতে হবে, আরেকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট হল: দুই মাস ধরে মূলত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে ট্রেডিং করার পর ট্রেডাররা প্রাথমিকভাবে এই প্রভাব উপেক্ষা করতে পারে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3476-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3643-1.3652-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3476-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে জিডিপি এবং শিল্প উৎপাদন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; তবে এই দুটি প্রতিবেদন খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—তাই আজ GBP/USD পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টের উপর অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।