আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য সারাদিন মোটামুটি উর্ধ্বমুখী হয়েছে, তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এই পেয়ারের প্রায় 90 পিপস দরপতন হয়েছে। ফলত দিনের শেষে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য মাত্র 40 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য কেন নিম্নমুখী হলো তা বলা কঠিন, বিশেষত যখন ইউরোর মূল্য স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে যে ব্রিটিশ পাউন্ড ইউরোর তুলনায় দুর্বল। যেদিন প্রকৃতপক্ষে ইউরো ও পাউন্ড—দুটিরই—দর বৃদ্ধির সুবিধাজনক পটভূমি ছিল, তবুও কেবল ইউরোর মূল্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল যুক্তরাজ্যে চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় অনুমান প্রকাশিত হয়েছিল; পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সামগ্রিকভাবে বার্ষিক 1% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রেডারদের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। সুতরাং এই প্রতিবেদন পাউন্ডের দরপতনের কারণ হতে পারে না। দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন JOLTs প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ছিল—তবে সেটাও এই পেয়ারের দরপতন ঘটায়নি।
মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কিছু কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ পাউন্ডের ব্যাপক দরপতন সবকিছু ভেস্তে দিয়েছে। প্রথম বাই সিগন্যালটি ততটা সঠিক ছিল না, তবু নতুন ট্রেডাররা প্রায় 20-25 পিপস লাভ করতে পেরেছিল। 1.3259-1.3267 এরিয়ার কাছ থেকে একটি বাউন্সের ফলে শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল, এরপর এই পেয়ারের মূল্য 1.3203-1.3212 এরিয়ার নিচে নেমে যায়। শেষের বাই সিগন্যালটি আবার লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দেয়, যা সামান্য মুনাফার সাথে ক্লোজ করা গিয়েছে। সামগ্রিকভাবে তিনটি ট্রেডই লাভজনক ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের সাম্প্রতিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ নেই, তাই ২০২৬ সালে আমরা ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই পেয়ারের মূল্য বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তবে এজন্য বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়া দরকার, কারণ বর্তমানে মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণেই মার্কিন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করে অথবা 1.3203-1.3212 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা ভাবতে পারেন। আর 1.3259-1.3267 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন বা 1.3203-1.3212 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স হলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে ADP, ISM এবং খুচরা বিক্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অতএব দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এই পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।