আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, তবে EUR/USD পেয়ারের তুলনায় এই দরপতনের মাত্রা অনেক বেশি তীব্র ছিল। বলা যেতে পারে যে জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিটিশ কারেন্সির দর অপেক্ষাকৃত বেশি স্থিতিশীল ছিল। তবুও ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে, ফলে আমরা আবারও বলতে পারি যে নিম্নমুখী প্রবণতার শুরু হয়েছে। ট্রেডাররা গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে পারেননি, তাই মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে। এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে স্থল সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—অনেক বিশ্লেষক বর্তমানে খার্গ দ্বীপের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যার মধ্য দিয়ে ইরানের প্রায় সমস্ত তেল রপ্তানি করা হয়। সুতরাং, এই দ্বীপ দখল করা হলে এটি কেবল ইরানের তেল রপ্তানিকেই স্থবির করবে না, তেহরানের মার্কিন বিরোধী আর্থিক প্রতিরোধ করার সক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের দৃষ্টিতে, সার্বিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সম্প্রসারণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফলে সম্ভবত এই সপ্তাহেও ট্রেডাররা সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল উপেক্ষা করবে এবং মার্কিন ডলারের দর নতুন করে বৃদ্ধি পাবে।
শুক্রবার ৫-মিনিট টাইমফ্রেমে মোটামুটি কার্যকর তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, আর ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট বেশ আকর্ষণীয় ও অস্থিরতা ছিল। প্রাথমিকভাবে, নতুন ট্রেডাররা 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন, তারপর 1.3259-1.3267 এরিয়া থেকে লং পজিশন, এবং পুনরায় 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারত। তিনটি ক্ষেত্রেই এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে তিনটি ট্রেড থেকেই মুনাফা করা গিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের সর্বশেষ উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গত শুক্রবার ভেঙে পড়ে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ নেই, তাই ২০২৬ সালে আমরা ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই পেয়ারের মূল্য বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তবে এজন্য বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে শুরু হওয়া প্রয়োজন, কারণ বর্তমানে মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণেই মার্কিন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3203-1.3212 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করে মূল্যের 1.3319-1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, এবং 1.3695-1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বা প্রতিবেদনের প্রকাশনা নির্ধারিত নেই। অতএব, যদি ট্রাম্প বা ইরান থেকে কোনো খবর না আসে, সেক্ষেত্রে সোমবার আমরা বিরক্তিকর ট্রেডিংয়ের প্রত্যাশা করতে পারি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।