আরও দেখুন
গতকাল মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। S&P 500 সূচক 0.83% বৃদ্ধি পেয়েছে, নাসডাক 100 সূচক 1.38% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.94% বৃদ্ধি পেয়েছে।
এশিয়ার ইক্যুইটি মার্কেটগুলোতেও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত করে। তেলের ব্যাপক দরপতনের পর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়—যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত শীঘ্রই শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। এই সংবাদই গত সপ্তাহের শুরুতে মার্কেটে পরিলক্ষিত উদ্বেগগুলো হ্রাস করেছে যা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ব্যাপক দরপতন ঘটিয়েছে।
সাময়িকভাবে হলেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা অবিলম্বে বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সামরিক সংঘাতের তীব্রতা ও জ্বালানি সরবরাহের বিভ্রাটের ঝুঁকির সম্ভাব্যতা থেকে বিনিয়োগকারীরা পুনরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। যারা সাইডলাইনে বসে ছিল বা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট বিক্রি করেছিল, তারা সতর্ক আশাবাদের সাথে মার্কেটে ফিরে আসতে শুরু করেছে।
তেলের দরপতন একটি মূল কারণ ছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমিয়েছে। এর ফলে জ্বালানি খরচের প্রতি সংবেদনশীল কোম্পানিগুলোর দৃশ্যমান অবস্থা উন্নত হয় এবং ভোক্তাদের জন্য কিছু স্বস্তি আসে। জ্বালানির দাম কমলে তা ভোক্তা ব্যয়কে সহায়তা করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে স্তিমিত করতে পারে, যা স্টক মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক।
MSCI এশিয়া-প্যাসিফিক সূচক প্রায় 3% বেড়েছে, যেখানে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারগুলো দর বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে ছিল। ইউরোপীয় স্টক মার্কেটগুলোতেও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে সেশন শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় 6.1% কমে ব্যারেল প্রতি $92.90-এ নেমে এসেছে, যদিও দিনের শুরুতে 11% পর্যন্ত দরপতনের শিকার হয়েছিল। তবুও মঙ্গলবারের দরপতনের পরও বছরের শুরু থেকে তেলের দর এখনও 50%-এরও বেশি বৃদ্ধি প্রদর্শন করে আছে।
ট্রাম্প আরো বলেছেন যে তিনি তেলের ওপর আরোপিত বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেবেন। তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় তবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এসব তীব্র প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ শিরোনামের প্রতি ট্রেডাররা কতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে তা পুনরায় প্রতিফলিত করে। অ্যাসেটগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রার অস্থিরতা বজায় রয়েছে—মার্কেটের ঝুঁকি সূচকটি গতবছর ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করার সময় পরিলক্ষিত স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পেপারস্টোন গ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ব্যাপকভাবে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতার পরে পুনরুদ্ধারমূলক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করে—সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নয়।
S&P 500-এর টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্রেতাদের নিকট-মেয়াদে সূচকটির রেজিস্ট্যান্স লেভেল $6,784 অতিক্রম করাতে হবে, যা নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু করে $6,801 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে পারে।সূচকটির দর $6,819-এর উপরে ধরে রাখতে পারলে বুলিশ প্রবণতা আরও শক্তিশালী হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, সূচকটির দর প্রায় $6,769-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়া উচিত। সেই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে দ্রুত এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টটির দর $6,756-এ নেমে আসবে এবং $6,743 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।