আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রদর্শন করে, সেইসাথে মূল্যের অস্থিরতার মাত্রাও অত্যন্ত কম ছিল। এমনকি ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমেও এটি স্পষ্ট যে গত সপ্তাহজুড়ে এই পেয়ারের মূল্য 1.1754 ও 1.1837-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। ফলে একটি সাইডওয়েজ চ্যানেল গঠিত হয়েছে, এবং গত উইকেন্ডে সংঘটিত ঘটনাগুলোও এই পেয়ারের মূল্যকে সেখান থেকে বেরোতে সাহায্য করেনি। মনে রাখবেন যে শনিবার ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, যেখানে এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশও জড়িয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে সোমবার মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেত—কারণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির ফলে নিরাপদ বিনিয়োগস্থল হিসেবে সাধারণত মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ে। তবুও মার্কেটে আবারও দুর্বল প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে, ঠিক আগের সোমবারের মতোই, যখন ট্রেডারদের ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত নতুন শুল্কের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছিল। মার্কিন ডলারের দর 60 পিপস বেড়েছিল, কিন্তু সকালে এই বৃদ্ধির অর্ধেকই দরপতন হয়েছিল। তাই এটি বলা যায় না যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার খবর মার্কেটের ট্রেডারদের জন্য চমকপ্রদ ছিল।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.1830-1.1837 এরিয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সন্ধ্যার শেষ মুহূর্তে মূল্য সেখানে পৌঁছেছিল, যখন উইকেন্ডের জন্য মার্কেট বন্ধ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। এমনকি যদি সিগন্যাল গঠিত হতো, তারপরও সেগুলো ট্রেড করার মতো যথেষ্ট কার্যকর হত না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশনের সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং চ্যানেলের উপরে কনসোলিডেশন করেছে। তবে এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতার বদলে আমরা বর্তমানে একটি সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। 2026 সালের শুরু থেকে পুনরায় একটি দীর্ঘমেয়াদি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিক মৌলিক প্রেক্ষাপট এখনও মার্কিন ডলারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং, তাই আমরা এই পেয়ারের মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 রেঞ্জের নিচে কনসোলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন; যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, and 1.2092-1.2104। সোমবার ইউরোজোনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে ফেব্রুয়ারির উৎপাদন খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংক্রান্ত ISM প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ট্রেডারদের এই প্রতিবেদনটির ফলাফল ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত। এবং অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।