empty
 
 
11.02.2026 08:56 AM
১১ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। মনে রাখবেন, সোমবার এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল, ফলে ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখন উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে। গতকাল আমরা একটি স্বাভাবিক রিট্রেসমেন্ট হতে দেখেছি। তবে আজ বিস্ময়কর কিছু ঘটতে পারে। মার্কেটের ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই মার্কিন শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের প্রত্যাশা করছে, গত সপ্তাহে প্রকাশিত ADP ও JOLTs প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফল সহ ফেডের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উক্ত প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। তবুও মনে রাখতে হবে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল হলেও পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে; উল্টোদিকে প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল দেখা গেলেও পূর্ববর্তী মাসগুলোর ফলাফল সংশোধন (ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী) করা হতে পারে। তাই এটা ধরে নেওয়া যাবে না যে আজ দুপুরের পর নিশ্চিতভাবে ডলারের দরপতন ঘটবে। সামগ্রিকভাবে মার্কিন ডলারের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রতিদিনই ডলারের ব্যাপক দরপতন হবে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সম্ভবত এটাই ভাল ছিল, কারণ গতকালের মুভমেন্টগুলো বিশেষভাবে কার্যকর ছিল না—মূলত বিশৃঙ্খল এবং প্রায় ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত। তবে আজ আরও সক্রিয় মুভমেন্টের আশা করা যায়। প্রকাশিতব্য মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রভাবে সকাল থেকেই মার্কেটে অস্থিরতা শুরু হতে পারে।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৬ সালেও ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে সহায়ক ছিল না, তবে পাউন্ডের মূল্যের এখন 1.38 লেভেলে ফিরে যাওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975। বুধবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অতএব দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এই পেয়ারের মূল্যের ব্যাপক "অস্থিরতার" সম্ভাবনা রয়েছে, এবং নতুন ট্রেডারদের স্টপ লস সেট করে রাখা উচিত।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.