আরও দেখুন
শুক্রবার দিনের অধিকাংশ সময় EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি বলা যায় না যে কোনো সামষ্টিক প্রেক্ষাপট বা ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের প্রভাবে এই মুভমেন্টটি ঘটেছে। সারাদিন জুড়ে ট্রেডাররা কেবল দুটি ইভেন্টের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিল: সেগুলো হচ্ছে জার্মানির শিল্প উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক। চলুন এই দুইটি সূচকের ফলাফল জেনে নেই। সাম্প্রতিক প্রবণতার সাথে সঙ্গতি রেখে জার্মানির শিল্প উৎপাদন সূচক শক্তিশালী ফলাফল দেখায়নি—সূচকটি প্রায় -0.3% থাকার পূর্বাভাস দেয়া সত্ত্বেও প্রকৃত ফলাফল -1.9% ছিল। অতএব প্রতিবেদনটির এইরূপ ফলাফল ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারেনি। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচকের ফলাফল প্রত্যাশার চাইতে ইতিবাচক ছিল, যা এই পেয়ারের দরপতন এবং ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারত। কিন্তু সেটাও ঘটেনি। ফলে সারাদিন ধরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। এই পেয়ারের মূল্য ধারাবাহিকভাবে চার দিন ধরে 1.1754 এবং 1.1837 এর মধ্যে অবস্থান করছে, তাই বলা যায় আমরা একটি ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে এই পেয়ারের মূল্য ঐ রেঞ্জের উপরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা খুবই দুর্বল ছিল, এবং কেবল গতরাতে 1.1830-1.1837 এরিয়ায় এই পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যা পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। অতএব শুক্রবার নতুন ট্রেডারদের কোনো ট্রেড ওপেন করার জন্য যথাযথ ভিত্তি ছিল না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন অব্যাহত আছে, যা একটি স্থানীয় প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মনে করিয়ে দেই যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়ার ওপর কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানের মূল্যের 1.1908-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104।
আজ ইউরোজোনে ক্রিস্টিন লাগার্ড একটি বক্তব্য দেবেন; সর্বশেষ তিনি গত বৃহস্পতিবার ইসিবি বৈঠকের পরে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আমরা তার কাছ থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার আশা করছি না। যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে না, সেইসাথে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশেরও কথা নেই। তাই সম্ভবত আমরা একটি বিরক্তিকর সোমবারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।