আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের সক্রিয় মুভমেন্টের জন্য কোনো ভিত্তিই ছিল না। সামগ্রিকভাবে, গতকাল মার্কেটে পরিলক্ষিত মুভমেন্ট নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই, কারণ সারাদিন ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া জানাবার মতো কিছুই ঘটেনি। যেমনটি আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, নতুন বছরে ইসিবির প্রথম বৈঠকটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা ছিল। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইসিবির সুদের হার পরিবর্তনের কোনো কারণ ছিল না। হ্যাঁ, ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতির হার 1.7%‑এ নেমে এসেছে, কিন্তু এটি বৈঠকের এক দিন আগে থেকেই জানা ছিল। 1.7% অবশ্যই ইসিবির 2%-এর লক্ষ্যমাত্রা থেকে কম, তবে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রতি মাসেই ঠিক 2%-এ থাকার কথা নয়—ছয় মাস বা এক বছরের গড় মানই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যদি ইসিবি পুনরায় মুদ্রানীতি নমনীয় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা নিকট ভবিষ্যতে করা হবে না, কারণ ক্রিস্টিন লাগার্ডে প্রায় স্পষ্টভাবেই এ কথা বলেছেন। ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতির হার দীর্ঘ সময় ধরে 2%-এর নিচে থাকলে ইসিবি পুনরায় সুদের হার হ্রাস করতে পারে।
বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন ধরে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং এমনকি মূল্য গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া ও লেভেলের কাছাকাছিও যাওয়ার চেষ্টাও করেনি। তাই বৃহস্পতিবার নতুন ট্রেডাররা পজিশন ওপেন করার কোনো সুযোগ পায়নি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন অব্যাহত আছে, যা একটি স্থানীয় প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মনে করিয়ে দেই যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশন করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন করে শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা করা যাবে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কেবলমাত্র জার্মানির শিল্প উৎপাদন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। একই সময়ে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট বা ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হবে। উভয় প্রতিবেদন তেমনভাবে গুরুত্বপূর্ণ না হওয়ায় সারাদিনজুড়ে আবারও ফ্ল্যাট রেঞ্জের কাছাকাছি দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।