আরও দেখুন
সোমবার সারাদিন জুড়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। দিনের মধ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপুর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, ফলে মার্কেট স্থবির অবস্থায় ছিল — অন্তত বুধবার পর্যন্ত বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এমন কোনো সংবাদ না আসা পর্যন্ত যা গুজব বা অনুমানভিত্তিক নয় ততদিন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। ফলশ্রুতিতে, শুক্রবার ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদন প্রকাশের পরে এই পেয়ারের দরপতন দ্রুত শেষ হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের দর সন্তোষজনক বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে এই বৃদ্ধি ততটা দৃঢ় ছিল না যতটা মনে হয়েছে। 2026 সালে মার্কিন ডলারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকবে, তবে তা প্রধানত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ঘোটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক ছিল, কিন্তু সার্বিকভাবে ট্রেডাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী নীতির কারণে মার্কিন ডলারের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান অবস্থায় রয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় মার্কিন ডলারের যেকোনো মূল্য বৃদ্ধিকে শুধুমাত্র কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ট্রেডাররা বর্তমানে কারেকশন শেষ হওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যেগুলোর কোনোটিই কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সোমবার এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা কম ছিল, এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য দিনের বেশিরভাগ সময় সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে ছিল। ফলে 1.3319-1.3331 এরিয়ায় গঠিত সেল সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে থাকলে নতুন ট্রেডাররা সামান্য লোকসানের শিকার হয়েছে। একই এরিয়া থেকে গঠিত লং পজিশন থেকে সর্বোচ্চ 10-15 পিপস লাভ করা গিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, কারণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধারাবাহিকভাবে অবনতি ঘটছে এবং এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি শুক্রবার দেখা গিয়েছিল), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় মার্কিন ডলারই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741-1.3751। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না, তাই আমরা আজও নীরস ট্রেডিং কার্যক্রমের আশা করতে পারি — এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা কম থাকবে এবং সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।